‘এক ইঞ্চি জমি ছাড়ব না, সব ঝামেলার জন্য দায়ী ভারত’

প্রায় আড়াই ঘণ্টার লম্বা বৈঠক। সীমান্তের উত্তেজনা, ভারত-চিন সম্পর্ক! চিনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেনারেল ওয়েই ফেংহে-র সঙ্গে বৈঠকে ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের এই দুই বিষয় নিয়েই কথা হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। লাদাখে ভারত-চিন সীমান্তের উত্তেজনা কি এবার প্রশমিত হবে! প্রতিরক্ষামন্ত্রকের তরফে অবশ্য এই মিটিংয়ের সারমর্ম নিয়ে কিছুই সরকারিভাবে জানানো হয়নি। শুধু এটুকুই জানানো হয়েছে যে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা নিয়ে চিনের কাছে ভারত নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছে। গালওয়ান উপত্যকায় গত কয়েক মাস ধরে উত্তেজনা প্রশমন নিয়েও দুই দেশের রক্ষামন্ত্রীর কথা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। জানানো হয়েছে, দুই দেশের মন্ত্রী ভারত-চিন সম্পর্ক ও সীমান্ত এলাকার উন্নয়নের ব্যাপারে আলোচনা করেছেন। তবে দুই দেশের সম্পর্ক যে এখনই ভাল হচ্ছে না তা চিনের বয়ানে স্পষ্ট।

সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন (SCO)-এর বৈঠকে যোগ দেওয়ার জন্য দুই দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রী এখন রাশিয় সফরে রয়েছেন। কিন্তু এই মিট-এর বাইরেও লাদাখের উত্তেজনা ও সীমান্ত সমস্যা নিয়ে কথা বলার জন্য রাজনাথ সিংয়ের কাছে সময় চেয়েছিলেন চিনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেনারেল ওয়েই ফেংহে। তাঁর আবদনে সাড়া দিয়ে এদিন আলোচনায় বসেন ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী। যদিও সীমান্তে উত্তেজনার পর থেকে এর আগেও দুবার চিনের প্রতিরক্ষামন্ত্রক ভারতের সঙ্গে আলোচনার প্রস্তাব রেখেছিল। তবে ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রক তাতে সাড়া দেয়নি। কারণ চিনের লাগাতার আগ্রাসন থামার কোনও নাম-গন্ধ ছিল না। আর তাই আলোচনায় বসতে রাজি হননি রাজনাথ সিং। এমনকী রাশিয়া সফরে যাওয়ার আগেও তিনি জানিয়েছিলেন, চিন ও পাকিস্তানের নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনায় বসার প্রশ্নই নেই। কিন্তু শেষমেশ আড়াই ঘন্টা বৈঠক হয়েছে। তবে সমস্যার সমাধান সূত্র বেরোয়নি। আর সেটা চিনা প্রতিরক্ষামন্ত্রীর বয়ানে স্পষ্ট।

বেজিং-এর তরফে শনিবার সকালে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ”আমরা আমাদের জমির এক ইঞ্চিও ছাড়ব না। দেশের সীমান্ত রক্ষার জন্য আমাদের সেনা বদ্ধপরিকর। সীমান্তে যাবতী ঝামেলার জন্য দায়ী শুধুমাত্র ভারত। সীমান্তে এই গোলযোগের পিছনে ঠিক কী কারণ রয়েছে তা এখন সবার কাছে পরিষ্কার। আর আমরা আরও একবার জানিয়ে রাখছি যে চিন এক ইঞ্চি জমিও ছাড়বে না। দেশের সীমানা রক্ষায় আমাদের সেনা দিন-রাত পাহারায় রয়েছে।” তবে এদিন রাজনাথ সিংও চিনতে শুনিয়ে রাখেন, ভারত নিজের অবস্থান থেকে সরছে না। চিনের আগ্রাসী মনোভাবের সামনে মাথা নোয়ানোর প্রশ্নই নেই। সীমান্তে ভারতীয় ভূখণ্ড রক্ষার জন্য ভারতীয় সেনার জওয়ানরাও বদ্ধপরিকর।

Sharing is caring!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

shares